Thursday , April 22 2021
Breaking News
Home / Education / দেখুন যেভাবে হলে তিনি সবজি বিক্রেতা থেকে বিসিএসে সরকারি বড় কর্মকর্তা!

দেখুন যেভাবে হলে তিনি সবজি বিক্রেতা থেকে বিসিএসে সরকারি বড় কর্মকর্তা!

পড়াশোনার পাশাপাশি করেছেন কৃষিকাজ। লাঙ্গল হাতে জমি চাষ করেছেন। বাজারে নিয়ে কোন কোন সময় সবজিও বিক্রি করেছেন তিনি। সবজি বিক্রেতা সেই ছেলেটিই এখন বাংলাদেশ সরকারের বড় কর্মকর্তা হয়েছেন। বিসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে বর্তমানে তিনি বাংলাদেশ মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের ঢাকা মেট্রো উপ অঞ্চলের উপ-পরিচালক হয়েছেন। এটি মুকুল জ্যোতি চাকমার সফলতার গল্প।

চলুন জেনে নেই জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সেই ছাত্রটির সফলতার গল্প : রাঙামাটি জেলার বাঘাইছড়ি উপজেলার দু’র্গম বঙ্গলটুলি গ্রামে জন্ম নেন মুকুল জ্যোতি চাকমা। পরিবারে পাঁচ সন্তানের মাঝে একমাত্র ছেলে সন্তান তিনি। তার পরিবার আর্থিকভাবে তেমন সচ্ছল ছিল না। বাবা তুষার কান্তি চাকমা পাঁচ ছেলে-মেয়ের পড়ালেখা চালিয়ে নিতে হিমশিম খেয়েছেন। পরিবারের আয় বাড়াতে নিয়মিত কৃষি কাজ করতেন তিনি। ধান চাষ, জুম চাষ এবং বাড়ির আঙ্গিনায় সবজি চাষ করতে হতো। নিজেদের উত্পাদিত কৃষি পণ্য স্থানীয় বঙ্গটুলি বাজারে বিক্রি করার দায়িত্ব পড়ত মুকুলের উপর। মুকুল জ্যোতির

শিক্ষাজীবন শুরু বঙ্গলটুলী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যেতে তাকে পাড়ি দিতে হতো চার কিলোমিটার পাহাড়ি দুর্গম পথ। রুপালি উচ্চবিদ্যালয়ে তার মাধ্যমিক শিক্ষাজীবন কাটে। উচ্চবিদ্যালয়ে যেতে তার পাড়ি দিতে হতো দুর্গম নয় কিলোমিটার পথ। দুর্গম পাহাড়ি পথ পেরিয়ে নৌকায় পাড়ি দিতে হতো কাচালং নদী। কৈশোরে মুকুলের পড়ালেখার তেমন সুখস্মৃতি নেই। গ্রামে বিদ্যুৎ ছিল না।

রাতে কুপি জ্বা’লিয়ে পড়তে হতো। অনেক সময় কেরাসিন না থাকায় পড়া সম্ভব হতো না। মাধ্যমিক পড়া শেষে বাবার ইচ্ছা ছেলে পলিটেকনিকে পড়ুক। কিন্তু মুকুল জ্যোতি ভর্তি হলেন রাঙামাটি সরকারি কলেজে। মুকুল জ্যোতি ১৯৮৮ সালে রাঙামাটি সরকারি কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন। নিকট আত্মীয় ডা. স্নেহ কান্তি চাকমার আর্থিক সহযোগিতায় বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিতে পেরেছিলেন। ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে বোটানিতে পড়ার সুযোগ পেলেও আবাসিক অসুবিধার কারণে পড়া হয়নি। পরে ইতিহাস বিষয়ে পড়ার সুযোগ পান জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের মীর মোশাররফ হোসেন হলে থাকতেন তিনি। বাবা মাসে ১২ শত

টাকা পাঠাতেন, এই টাকায় পুরো মাস চালিয়ে নিতে বেশ কষ্ট হতো। ডাইনিংয়ে খেতেন কম দামে। পরে ভালো রেজাল্ট করার কারণে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে ৩০০ টাকা মাসিক শিক্ষাবৃত্তি পান। তিনি ১৯৯৫ সালে মাস্টার্স পাস করেন। ১৯৯৭ সালে একটি ইলেট্রনিক কোম্পানিতে মাত্র সাড়ে চার হাজার টাকা বেতনে সেলসম্যানের চাকরি নেন। সেলসম্যানের চাকরি ছিল মাত্র আট মাস। আবার বেকার। থাকা-খাওয়ার চুক্তিতে এক আত্মীয়ের ছেলেকে টিউশনি পড়াতে শুরু করেন তিনি। পাশাপাশি নিতে থাকেন বিসিএস পরীক্ষার প্রস্তুতি। ১৯৯৯ সালে সাধারণ বীমা কর্পোরেশনের অ্যাসিস্ট্যান্ট ম্যানেজার হিসেবে চাকরি পান। তার ইচ্ছা সরকারের বড় জায়গায় কাজ করা, তাই চাকরির পাশাপাশি বিসিএস পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। ২০০০ সালে পিএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে পাবলিক সার্ভিস কমিশনের মাধ্যমে সহকারী পরিচালক হিসেবে চাকরি পান মা’দকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরে। ২০১২ সালে উপ পরিচালক হিসেবে পদোন্নতি পান। বর্তমানে ঢাকা মেট্রো উপ অঞ্চলে উপ পরিচালক হিসেবে দায়িত্বে রয়েছেন।

About khan

Check Also

ফজরের নামাজের পর কোরআন তেলাওয়াত করে মেডিকেলের পড়া শুরু করতেন মুনমুন

এমবিবিএস ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষে ভর্তি পরীক্ষায় প্রথম স্থান অর্জন করেছেন মিশরী মুনমুন। তিনি পাবনা মেডিকেল কলেজ ...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *