Tuesday , May 11 2021
Breaking News
Home / Education / আমরা অযোগ্যতার কারণে নয়, কনফিডেন্সের অভাবে হেরে যাই

আমরা অযোগ্যতার কারণে নয়, কনফিডেন্সের অভাবে হেরে যাই

সাধারনত কোনো বিষয়ে হেরে গেলে আমরা ধরে নেই ওই বিষয়ে আমাদের যোগ্যতা নাই। আসলেই কী তাই? শুধু যোগ্যতার না থাকার কারনে আমরা হেরে যাই, নাকি অন্য কোন কারণ আছে। এ বিষয়ে ‘41st BCS Preliminary Analysis’ নামের একটি ফেসবুক গ্রুপে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র মো: শরিফুজ্জামান আলামিন একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন। পাঠকদের জন্য তার স্ট্যাটাসটি তুল ধরা হল-

স্কুল লাইফে কখনো ইংরেজিতে পাশ করতে না পারা ছেলেটি এখন ইন্টারন্যাশনাল ইংরেজি পত্রিকার পপুলার কলামিস্ট, এটা শুনে আপনিও কি ইংরেজিতে ফেল করতে চাইবেন?
‘সবচেয়ে কম জিপিএ নিয়ে অনার্স কমপ্লিট করা ছেলেটিই বিসিএসে ফার্স্ট হয়েছে’- এটা শুনে আপনিও কি আপনার কম জিপিএ নিয়ে গর্ব করবেন? ‘স্কুলের ব্যাকবেঞ্চার মেয়েটি এবার গুগলে চাকরি পেয়েছে’- এটা শুনে আপনি খুশিতে লাফানো শুরু করলেন। কারণ আপনিও স্কুল কলেজে ব্যাকবেঞ্চার ছিলেন।

হ্যালো ডিয়ারস, ইংরেজিতে ফেল করা যে ছেলেটি ইংরেজি পত্রিকার পপুলার কলামিস্ট হলো, সে ফেল করার কারণে পপুলার কলামিস্ট হয়নি; বরং ফেল করার আক্ষেপটা কাটাতে সে ভেতরে ভেতরে নিজেকে ইংরেজিতে এতটাই দুর্দান্ত করে তুলেছিলো, সেই লুকানো পরিশ্রমই তাকে আজ পপুলার কলামিস্ট করেছে ইংরেজি পত্রিকার।
নয়তো ইংরেজিতে তো ফেল অনেকেই করেছে কিন্তু কেউ তো তার মত পপুলার ইংলিশ কলামিস্ট হতে পারেনি।

কম জিপিএ নিয়ে যিনি বিসিএসে ফার্স্ট হয়েছেন, তিনি তার কম জিপিএর কারনে বিসিএসে ফার্স্ট হননি; বরং কম জিপিএ পাওয়াটাকে তিনি জিদে পরিণত করে এতটাই কঠোর পরিশ্রম করেছেন যে, বিসিএস ফার্স্ট হওয়াটা তার জন্য খুব ইজি হয়ে গিয়েছিল।
নয়তো অসংখ্য কম জিপিএ পাওয়া ক্যান্ডিডেট আছে, যারা বিসিএসেও অসংখ্যবার ফেল করেছে। আপনি কম জিপিএ নিয়ে তার সাথে মিলিয়ে গর্ব করে লাভ নেই।
বরং কম জিপিএ পেয়ে তিনি সেটাকে দুর্বলতা ভেবে ভেতরে ভেতরে নিজে নিজে যে কলুর বলদের মত পরিশ্রম করেছেন, সেটার সাথে নিজের কম্পেয়ার করুন।

গুগলে চান্স পাওয়া ব্যাকবেঞ্চার মেয়েটি ব্যাকবেঞ্চার হওয়ার কারণে এত বড় চাকরিটা পায়নি। বরং ব্যাকবেঞ্চার ছিল বলে সে ভেবেছে সে পেছনে পড়ে আছে, এই পেছনে পড়ে থাকার কষ্টটাকে সে দাঁতে দাঁত চেপে জিদে পরিণত করে নিজেকে ভেতরে ভেতরে এতটাই যোগ্য করে তুলেছে যা কেউ জানেইনা।
‘ভেতরে ভেতরে’ এই যে নিজেকে যোগ্য করে গড়ে তোলা, শুধু এটার কারণেই সে চাকরিটা পেয়েছে। নয়তো কত ব্যাকবেঞ্চারই তো পুরো লাইফে সবার আড়ালেই হারিয়ে গেল।

‘কোথাও চাকরি না পাওয়া ছেলেটিই এখন অনেকের চাকরিদাতা, বড় কোম্পানির মালিক’- এটা দেখে আপনিও কোথাও চাকরি না পেয়ে যদি খুশিতে বাকবাকুম করতে থাকেন, তবে আপনি বোকার স্বর্গে বাস করছেন। কারণ চাকরি অনেকেই পায়নি, কিন্তু তাই বলে চাকরি না পাওয়া সবাই বড় বড় কোম্পানির মালিক হয়ে উঠেননি।
ফাইনালি বড় কোম্পানির মালিক তিনিই হয়েছেন যিনি এর পেছনে বড় বেশি শ্রম দিয়েছেন।

কারো ট্র্যাজেডির সাথে নিজেকে মিলিয়ে প্রাউড না করে বরং তাদের স্ট্র্যাটেজি আর পরিশ্রমের সাথে নিজেকে কম্পেয়ার করাটাই বেশি প্রয়োজন।
দেখবেন তখন আপনিও তার মত হতে পারবেন; যদি শ্রমটা তার চেয়ে বেশি দেন তবে তাকে ছাড়িয়ে যেতেও পারবেন।

পুকুর পাড়ে আরাম করে বসে বড়শি দিয়ে আপনি বড়জোর ছোট ছোট পুঁটিমাছ ধরতে পারবেন। কিন্তু বড় বোয়ালমাছটি ধরতে হলে আপনাকে কাঁদা পানিতে জাল নিয়ে নেমে যেতে হবে।

আজ আপনি যা করবেন বলে সবেমাত্র চিন্তা শুরু করছেন, অনেকেই গত কয়েকবছর ধরে খুব জোড়েশোড়ে সেটার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে। আজ থেকে যদি তার চেয়ে বেশি কিছু করতে না পারেন, তবে কাল সে আপনাকে হারিয়ে দিবে।

আপনাকে হতাশ করার লোকের অভাব হবেনা পৃথিবীতে। ‘আপনি পারবেন না/ আপনাকে দিয়ে কিচ্ছু হবে না’ – এসব হাজারজন আপনাকে বলতে বলতে পেছনে টেনে ধরবে, সামনে এগুতে দিবেনা।

পৃথিবীর সবচেয়ে বড় খুনী তো তারাই, যারা মানুষকে হতাশ করে তাদের স্বপ্নগুলো জবাই করে দেয়। অথচ একেকটা স্বপ্ন যদি বেঁচে থাকতো তবে গুগলের সেরা চাকরিটা আপনার আমারও হতো পারতো। বাংলাদেশ নয়, আমরা লন্ডনও পাল্টে দিতে পারতাম।

অবাক হচ্ছেন? গুগলে/ নাসায় তো বাঙালি চাকরি করছে। ব্রিটিশ এমপি হিসেবে তো অলরেডি গতবার ৩ জন বাংলাদেশি নির্বাচিত হয়েছেন। এসব তো কাল্পনিক গল্প না। শুধু বারুদে একটু আগুন জ্বালানো দরকার।
আমরা আসলে অযোগ্যতার কারণে হেরে যাই না।
বরং আমারও যে যোগ্যতা আছে শুধু এটুকু কেউ দেখিয়ে দেয় না বলেই, আমরা কনফিডেন্স পাইনা সবচেয়ে ভালো কিছু করার।

About khan

Check Also

একসঙ্গে প্রশাসন ক্যাডার হলেন সিলেটের দুই বোন

সিলেটের কানাইঘাট সদর ইউপির ছোট দেশ গ্রামের ডা. শামসুল ইসলাম চৌধুরীর দুই মেয়ে ফাতেমা তুজ ...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *